বাংলাদেশে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া। এটি শুধু সরকারি রেকর্ডে মালিকানা স্বীকৃতির মাধ্যম নয়, বরং ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত যেকোনো আইনি জটিলতা এড়াতে একটি নিরাপদ ব্যবস্থা। তবে দীর্ঘদিন ধরে নামজারি আবেদন বাতিল হওয়ার নানা কারণ নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন ছিলেন।
সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নতুন নির্দেশনা জারি হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—দুটি নির্দিষ্ট কারণে এখন আর নামজারি বাতিল হবে না। এই সিদ্ধান্ত ভূমি মালিকদের জন্য এক বড় স্বস্তির বার্তা। কথা না বাড়িয়ে চলুন জেনে নেয়া যাক দুটি কারণ কি তার বিস্তারিত
প্রথম কারণ- তৃতীয় ব্যাক্তির অবসান
তৃতীয় ব্যাক্তির অবসান মানে- জমির মালিক ও ভূমি কর্মকর্তা চারা যিনি রয়েছে যাদের কাজ হলো আপনাকে জঠিলতায় ফেলা। সেই ব্যাক্তির অবসান হবে। কি ভাবে হবে সেটা জানতে পুরোটা পড়ুন।
পূর্বে নামজারিতে ছোট খাটো ভূল দেখিয়ে ঝামেলায় ফেলা হতো। মানে কিছু অসাধু ব্যাক্তি ইচ্ছে করেই ছোট খাট ভূল দেখিয়ে আবেদন কারীকে তৃতীয় ব্যাক্তির কাছে পাঠিয়ে দিতো। আর সেই ব্যাক্তি দ্বারা অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিতো । অন্যতায় নামজারি বাতিল বা নামঞ্জুর করা হতো।
কিন্তু বর্তমানে এই পন্থা আর নেই। কারণ যে সহকারি কমিশনার ভূমি নামঞ্জুর বা বাতিল করবেন। তিনি বাতিলের কারণ স্পষ্ট করে লিখে বাতিল করতে হবে। মানে কোনো কারনে যদি বাতিল হয় সেটা স্পষ্ট উল্লেখ্য থাকবে। আবেদনকারী সে নিজেই সেটা সমাধান করে পরবর্তীতে নামজারি করিয়ে নিতে পারবে।
আর যদি কেউ ভূল ভাবে আপনার নামজারি বা খারিজ বাতিল করেন তার জন্য আপনি সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন। যার ফলে আপনি তৃতীয় ব্যাক্তির কাছে যেতে হবেনা। গনতে হবেনা অতিরিক্ত টাকাও।
আরো পড়ুন- নামজারি আবেদনের A-Z
দ্বিতীয় কারন- ২৮ কার্যদিবসের মধ্যেই নামজারি মামলা নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক
নির্ধারিত সময় না থাকায় মাসের পর মাস কোনো কারণ ছাড়াই ফাইল পড়ে থাকতো ভূমি অফিসে। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া বাতিল হতো নামজারি। কিন্তু বর্তমানে ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে নামাজারি নিষ্পত্তি করা বাধ্যতামূলক। যার ফলে আপনার ফাইল আর মাসের পর মাস পড়ে থাকবে না। আর যদি বাতিল হয় তারও কারণ ব্যাখ্যা করা বাধ্যতামূলক। সুতরাং সময় বেধে দেয়ার কারনে নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া আর আপনার নামজারি বাতিল হবেনা।
তাছাড়া নতুন নিয়মে এটাও বলা হয়েছে- ৭ সাত কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করার জন্য। তাই নতুন নিয়মে নামজারি বাতিল নয় বরং এখন থেকে এমন ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে তথ্য জানিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
মালিকের বা আবেদনকারীর করণীয় কিছু বিষয়
যদিও এই দুটি কারণে আবেদন বাতিল হচ্ছে না, তবুও নামজারি আবেদন করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:
- সঠিক দাগ নম্বর ও মৌজা উল্লেখ করুন: দলিলে ভুল দাগ নম্বর থাকলে নামজারি জটিলতায় পড়তে পারে।
- ভোটার আইডি ও দলিলের নামের মিল নিশ্চিত করুন: নামের অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- প্রযোজ্য দলিল ও কাগজপত্র সংযুক্ত করুন: দলিল, খতিয়ান, পর্চা ইত্যাদি যথাযথভাবে জমা দিতে হবে।
- সরকারি স্বার্থ বা খাস জমি এড়িয়ে চলুন: সরকারি মালিকানাধীন জমিতে ব্যক্তিগত নামজারি সম্ভব নয়।
ইতিকথা
নতুন এই নিয়মে নামজারি বাতিলের হার কমবে বলে আশা করা যায়। তাছাড়া এটি ভূমি মালিকদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়াবে। তবে আবেদনকারীদেরও অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে, যেন অন্যান্য ভুলের কারণে আবেদন বাতিল না হয়। সঠিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক দলিল এবং নিয়ম মেনে আবেদন করলেই নামজারি প্রক্রিয়া হবে সহজ, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য। সূত্র








