ই নামজারি জমির ক্রয়ের পর প্রথম কাজ হলো রেকর্ডীয় মালিকের নাম থেকে নিজের নামে খতিয়ান প্রস্তুত করা । আর বর্তমানে অনলাইনে ই নামজারি আবেদন এর মাধ্যমে নামজারি করতে হয়ে।
মানে এখন আর অফলাইনে ফাইল পত্র নিয়ে অফিসে অফিসে দৌড়ার দিন শেষ। আপনি ঘরে বসেই পুরো কাজ সম্পূর্ন করে নিতে পারেন। তার আগে জানতে হবে কিভাবে কোথায় থেকে কাজ করবেন। তাই আজকের আর্টিক্যাল সাজানো হয়েছে ই নামজারি আবেদন নিয়ে বিস্তারিত।
ই নামজারি কি
ই নামজারি হলো স্মার্ট ভূমি সেবার একটি অন্যতম সেবা। মানে জমি কেনার পরে উক্ত জমির নিজের নামে রেকর্ড করার প্রধান মাধ্যম হলো নামজারি। ই নামজারির পূর্বে এই কাজ অফলাইনে করতে হলো। যার ফলে নানান সমস্যায় পড়তে হতো ভূমি মালিকদেরকে। আর এই কাজকে বর্তমানে অনলাইনে আপনার ঘরে বসেই করে নিতে পারেন। অনলাইন বা ইলেক্ট্রনিক এর ব্যবহারের ফলেই বলা হয় ই নামজারি।
নামজারি না করলে যে ক্ষতি হতে পারে
জমি কেনার পর আপনার নামে একটি দলিল সম্পাদন হতে পারে। এবং আপনি হয়তো উক্ত ক্রয়কৃত দখল বা ভোগ করছেন। তবে আপনার নামে সরকারি কোনো রেকর্ড থাকবে না। আর সরকারের খাতায় যদি আপনার না লিপিবদ্ধ না হয় তবে যে কোনো সময় আপনার জমি পূর্বে মালিকের নামে রেকর্ড হতে পারে। এমন কি আপনি আপনার মালিকানা নিয়ে পড়তে পারেন নানাবিদ ঝামেলায়। তাই জমি ক্রয় করার পর প্রথম কাজ হলো জমি নামজারি করে নেয়া।
ভূমি নামজারির প্রথম কাজ
ই নামজারির জন্য প্রথম কাজ হলো সকল কাগজের স্কেনকপি সংগ্রহ করা। মানে আপনার দলিল স্কেন কপি। খতিয়ানের স্কেন কপি। সহ যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজ, যেমন প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ, কলমি নকশা, রায়ের কপি, নামের বানন ভূল থাকলে প্রত্যায়ন। যদি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হোন তবে উত্তরাধিকার সনদের স্কেন কপি। তবে খেয়াল রাখবেন ফাইলের সাইজ যেন এবারেজ 10 এম এর বেশি না হয়।
ই-নামজারি আবেদন করতে কি কি লাগবে
যে সকল ডকুমেন্ট নিয়ে আপনাকে ই নামজারি আবেদনে বসতে হবে। তাহলে- প্রয়োজনীয় সকল কাগজ বা ডকুমেন্টের স্কেন কপি সাথে নিয়েই বসতে হবে। মানে আপনি যেখান থেকে আবেদন করবেন সেটা হতে পারে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার । সেখানে ছবি ছাড়া বাকি সকল ফাইল পিডিএফ আকারে সংরক্ষন করে রাখা লাগবে। যাতে সহজে ফাইল গুলো আপলোড করতে পারেন।
- দলিলের স্কেন কপি ( ফটোকপি গ্রহণ যোগ্য নয়)
- বিক্রেতার নামের খতিয়ানের কপি ( যার নাম/যে খতিয়ান থেকে খারিজ হবে)
- আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ডের সঠিক তথ্য । ( আবেদনকারী/দলিলগ্রহীতা, যদি প্রতিনিধি থাকেন তবে প্রতিনিধির এন আইডি ও ছবি লাগবে।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি। ( আবেদনকারী )
- যদি সরসারি রেকর্ডীয় মালিক থেকে ক্রয় না করেন, তবে পূর্বের বায়া দলিলের স্কেন কপি।
ই নামজারি আবেদনের পূর্বে আপনাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে একটি একাউন্ট নিবন্ধন করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার একটি সচল সিম কার্ড ও আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ডের কপি বা সকল তথ্য থাকতে হবে।
ই নামজারি আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন
আবেদন কিভাবে করবো
ই নামজারি আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটারের যে কোনো একটি ব্রাউজার ওপেন করতে হবে। এবং সার্চ বক্সে বা সার্চ বারে লিখন ই নামজারি। এবার সেখান থেকে আপনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সাইটে প্রবেশ করুন। চিন্তার কারণ নিচে আমি লিংক দিয়ে দেবো সেখান থেকেও সরাসরি আবেদন অপশনে প্রবেশ করতে পারবেন।
প্রথমেই আপনার একাউন্টে লগইন করুন। সেখান থেকে মিউটেশন অপশনে চলে যান। এবার নামজারি আবেদনের জন্য কোর্ট ফি প্রদান করুন। তারপর আপনি আপনার নামজারি আবেদনের কার্যক্রমে শুরু করুন। সতর্কতার সহিত সকল তথ্য পূরণ করুন। কোনো তথ্য ভূল করা যাবেনা।
ই-নামজারী আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই
আবেদন করার পর থেকেই আপনি নামজারি আবেদনের বর্তমান অবস্থা চেক করতে পারবেন। মানে আপনি আপনার আবেদন কার কাছে আছে তার নাম পদবী আর মোবাইল নাম্বার সহ দেখতে পারবেন। তাছাড়া আপনকে এস এম এস এর মাধ্যমে আপনার আবেদনের অগ্রগতি জানানো হবে।
আপনি চাইলে আপনার নিবন্ধিত প্রোফাইল থেকে থেকেও সেটা চেক করতে পারবেন। সুতরাং আপনি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসে আপনার ই-নামজারি আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন।
ই নামজারি বা খারিজ এর মধ্যে পার্থক্য কি
ই-নামজারি বা খারিজ এর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। শুধু উচ্চারণ আর শব্দের পার্থক্য। ইনামজারি ও খারিজ একই বিষয়। পূর্ব নামজারি বা খারিজ বলা হতো। স্মার্ট ভূমি সেবার কারনে বর্তমানে সেটা ই মিউটেশন বা ই নামজারি বলা হয়।
ই নামজারির ফি কত টাকা
নামাজারি বা খারিজের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি মোট ১১৭০ টাকা। মানে আবেদনের পূর্বে কোর্ট ফি হিসাবে ২০ টাকা প্রদান করতে হবে। তারপর আবেদন শেষ হলে নামজারি ফি হিসাবে ৫০ টাকা প্রদান করবেন। সবশেষ খতিয়ান প্রস্তুত হওয়ার পর ডিসিআর হিসাবে ১১০০ টাকা প্রদান করতে হবে। আর এই ই নামজারির সকল ফি অনলাইনে প্রদান করতে হবে।
সরসারচর জিজ্ঞাসা
নামজারি আবেদন প্রথমে ২০ টাকা কোর্ট পি প্রদান করতে হবে। তারপর নামজারি ফি ৫০ টাকা
মিউটেশন বা নামজারি ফি সর্বমোট ১১৭০ টাকা।
ই নামজারির সর্বশেষ ধাপ হলো খতিয়ান সংগ্রহ করা। আপনি যদি ডিসিআর ফি পদ্রান করে ফেলেন, তাহলে খতিয়ান ডাউনলোড ফি সেখানেই প্রদান করা হয়েগেছে। এখন আপনি নির্দিষ্টি সময় পর্যন্ত যত খুশি খতিয়ান ডাউনলোড করেন। কোনো ফি প্রদান করতে হবে না।
আপনি যদি আবেদন
আবেদন শেষে যদি আপনি চেক করতে চান তাহলে আপনি আপনার নিবন্ধিত প্রোফাইল থেকে চেক করতে পারেন। অথবা আপনার মোবাইলের এস এম এস এর মাধ্যমে অগ্রগতি চেক করতে পারেন।
শেষকথা
পরিশেষে বলতে চাই জমির কিনার পূর্বে সকল ডকুমেন্ট ভালো করে দেখুন তার পর কিনুন। কারণ আপনার পেপার্সে যদি সমস্যা হয় খারিজ বা নামজারিতে সমস্যা হবে। নামজারি বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে আমাদের ম্যাসেজ করুন। আমাদের স্মার্ট এ আই আপনার সমস্যার সমাধান দিবে।









Very good i like it