রেকর্ড বা খতিয়ান থাকার পরেও আপনার মালিকানা হারাতে পারেন কিছু ভূলের জন্য। তাই আজকের আর্টিক্যালটি খুবই গুরুত্বপূণ্য। মনোযোগ দিয়ে পড়তে বসুন।
আর মিলিয়ে নিন আপনার ভূল আছে কি। যদি ত্রুটি থেকে থাকে দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা শুরু করুন। কথা না বাড়িয়ে চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।
রেকর্ড বা খতিয়ান কি
প্রথমত রেকর্ড বা খতিয়ান হলো জমির বর্তমান মালিক চেনার একটি ডকুমেন্ট। মানে রেকর্ড কিংবা খতিয়ান অথবা পর্চা যাই বলেন।
এই কাগজ দ্বারা বর্তমান রেকর্ডীয় মালিক দেখা হয়। তবে শুধু মাত্র রেকর্ড বা খতিয়ানে আপনার নাম থাকলেই আপনি জমির মালিক হয়েগেছেন এটা ভাবলে ভূল হবে।
এগুলো ছাড়াও আরো কিছু ডুকমেন্ট আপনার লাগবে। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিম্নে করা হলো। আপনি দেখেনিন আপনার এই ডকুমেন্ট গুলো রয়েছে কিন।
আরো পড়ুন:- যেকোনো খতিয়ান কিভাবে যাচাই করবেন
দলিল
প্রথমেই বলেছি শুধু মাত্র রেকর্ড বা খতিয়ান আপনার নামে থাকলে হবেনা। আপনি যদি ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে থাকেন । তবে সেক্ষেত্রে আপনার দলিল থাকতে হবে। এবং আপনি যার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন তিনি উক্ত জমির বৈধ মালিক থাকতে হবে।
মানে উনি যে জমি টুকু আপনার কাছে বিক্রি করেছেন তিনি কি উক্ত জমির এই পরিমান ভূমির সঠিক মালিক। যদি আপনার ক্রয়কৃত জমির বৈধ মালিক পূর্বের বিক্রেতা না হয়। তবে সেক্ষেত্রে আপনার জমির মালিকানা আপনি হারাতে পারেন।
আরো জানুন: কিভাবে পুরাতন দলিল তল্লাসি করবেন
বায়া দলিল বা রেপারেন্স
জমি ক্রয় করার সময় আপনি যার থেকে জমি ক্রয় করছেন। তিনি যদি সরাসরি রেকর্ডীয় মালিক না হোন। তাহলে তিনি কিভাবে মালিক হয়েছেন সেটা জানুন। যদি তিনি ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে থাকেন তবে উক্ত দলিল আপনার সংগ্রহে রাখুন। আর যদি উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হোন দেখুন তিনি তার অংশে কতটুকু জমি পাবেন। তার বেশি আপনি ক্রয় করলে অতিরিক্ত জমির মারিকানা আপনি হারাবেন।
ভূমি উন্নয়ন কর রসিদ
ভূমি উন্নয়ন কর এর মাধ্যেমে সরকার জানতে পারে এই জমি কার দখলে রয়েছে। আপনি যদি জমি ক্রয় করার পর শুধু দলিল নিয়ে বসে থাকেনে তবে আপনি ভূল করছেন। যত তারাতারি সম্ভব আপানি নামজারি বা খারিজ করুন। কারণ আপনার নামে রেকর্ড না হলে আপনি খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করতে পারবেন না। আর যদি আপনি নির্ধারিত সময়ের পরেও খাজনা প্রদান না করেন তবে আপনি আপনার মালিকানা হারাতে পারেন। ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করুন
উত্তরাধিকার সম্পত্তি ক্রয়ের সময় সচেতন হোন
অনেক সময় দেখা যায় উত্তরাধিকারগনের কোনো একজন জমি বিক্রি করবে। মোট জমির যে পরিমান ভূমি উক্ত উত্তরাধিকার পাবেন তার বেশি ক্রয় করা যাবেনা। কারণ তিনি যদি হিস্যার অধিক জমি বিক্রি করেন সেটা গ্রহনযোগ্য নয়। আর আপনিও যদি বেশি কেনেন আর বাকি অংশিদারগন আপত্তি করেন তবে আপনি অতিরিক্ত জমির মালিকানা ছেড়ে দিতে হবে।
শেষকথা
পরিশেষে বলি জমি তুমি কার ? যার দখল আছে তার নাকি দলিল আছে যার, নাকি রেকর্ড বা পর্চা আছে যার, নাকি খাজনা আছে যার। উক্তর জমি প্রতিটা ডকুমেন্টের । কারণ সকগুলো কাগজ একটা অন্যটার সাথে জড়িত। তবে দলিল আছে যার তিনি জমির মালিক হতে সর্বাগ্রে।
আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন। দেখা হবে নতুন বিষয় নিতে । ভালো থাকুন । আল্লাহ হাফেজ।










