মঙ্গলবার, ২৯শে পৌষ ১৪৩২, ১৩ই জানুয়ারি ২০২৬

🎉 “সহজ ডিজিটাল সার্ভিস” এর শুভ উদ্বোধন 🎉
landinfobd.com আগামীকাল শুরু করছে ভূমি সেবা, অনলাইন সহায়তা ও ডিজিটাল সল্যুশনের নতুন যাত্রা।

খতিয়ান বা পর্চা এর ইতিহাস, ধরণ ও সংগ্রহ পদ্ধতি-২০২৫

Published On: আগস্ট ১০, ২০২৫
খতিয়ান বা পর্চা

খতিয়ান বা পর্চা গুরুত্বপূন্য এতটি নতি। আর জমি মানে শুধু মাটি নয়—এটা আমাদের স্বপ্ন, পরিবার, উত্তরাধিকার আর জীবনের নিরাপত্তা।

কিন্তু এই জমির মালিকানার নিশ্চয়তা আসে মূলত একটি কাগজ থেকে—যাকে আমরা বলি খতিয়ান বা পর্চা ।

সময়ের সাথে এসেছে খতিয়ান বা পর্চা পদ্ধতিরও অনেক পরিবর্তন । শুরু হয়েছিলো হাতের লেখা নথি দিয়ে এখন সবকিছু হচ্ছে ডিজিটাল।

আমরা জানব খতিয়ান বা পর্চা কী, কয় প্রকার, কীভাবে পাওয়া যায়, কোনটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ।

আর একজন ভূমি মালিক হিসেবে এ বিষয় বিস্তর জ্ঞান থাকা অতীব জরুরী।

পর্চা কী

“পর্চা” শব্দটা এসেছে ফার্সি “পরিচয়” শব্দ থেকে। মূলত একটি  সরকার  কর্তৃক  প্রদত্ত নথি, যাতে জমির বিবরণ, মালিকের নাম

এবং দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ইত্যাদি বিস্তারিত উল্লেখ করা থাকে।

সরকারের ভূমি জরিপ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পরে এই পর্চা তৈরি হয় এবং এতে সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ মালিকানা,

দখল ও ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

খতিয়ান বা পর্চার প্রকার

বাংলাদেশে মূলত চার ধরনের খতিয়ান বা পর্চা প্রচলিত রয়েছে। এগুলোর প্রতিটির গুরুত্ব এবং বৈধতা রয়েছে, তবে সময়ের ব্যবধানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে:

সি.এস (C.S) খতিয়ান  Cadastral Survey (1888–1940

সি.এস খতিয়ান ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রথম বৃহৎ ভূমি জরিপ।

এই খতিয়ান অনেক পুরনো এবং সময়ের ব্যবধানে অনেক পরিবর্তন বা হেরফের হয়েছে। এতে জমির প্রকৃত মালিকানা অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো পরিবার বা গোষ্ঠীর নামে থেকে গেছে।

সি এস (C.S) খতিয়ান বা পর্চা কেন লাগবে

জমির আসল চরিত্র বোঝার প্রাথমিক উৎস। অনেক সময় উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা বুঝতে সহায়তা করে। তাই খতিয়ায়ন বা পর্চা প্রয়োজন।

State Acquisition Survey (1956–1962) এস.এ (S.A) খতিয়ান  

পাকিস্তান আমলে জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল করে ভূমি সংস্কারের অংশ হিসেবে এই জরিপ শুরু হয়। এই জরিপে জমির মালিকানা পুনর্বিন্যাস করা হয় এবং অনেক নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। এটাকে এস এ বা ছাপ্পানের পর্চাও বলা হয়।

এস.এ. (S.A) খতিয়ান বা পর্চা কেন দরকার

সি.এস. এর তুলনায় অধিক হালনাগাদ। জমিদারি প্রথা পরবর্তী ভূমির মালিকানার পরিচয় দেয়। তাই এস এ খতিয়ান বা পর্চা একটি জরুরী কাগজ।

আর.এস. (R.S) খতিয়ান – Revisional Survey (1965–1984)

আর.এস. জরিপ মূলত এস.এ জরিপের পর জমির দখল এবং ব্যবহারগত পরিবর্তনের ভিত্তিতে করা হয়। মানে সময়ের ব্যবধানে অনেক মালিকা পরিবর্তন হয়েছে। মূলকথা এটা এস এস জরিপ পরবর্তী মালিকানা প্রকাশ করে।

বিশেষত্ব: স্থানীয় জমির ব্যবহার, দখল ও মালিকানা হালনাগাদ হয়। আদালতে জমি সংক্রান্ত মামলায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য

বি.এস./বি.আর.এস. খতিয়ান – BRS (Bangalbandhu/Revisional Survey)

স্মার্ট ভূমি সেবার ফলে প্রায় সকল সার্ভিস এখন ডিজিটাল। তাই বর্তমান সরকার (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে) ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির জন্য যে খতিয়ান করছে, তা হচ্ছে বি.আর.এস.। এটিই ভবিষ্যতের রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষত্ব: সম্পূর্ণ ডিজিটাল। অনলাইন থেকে যাচাই ও সংগ্রহযোগ্য। হালনাগাদ মালিকানা ও দখলের রেকর্ড।

কোন পর্চা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকেই জানতে চান, “কোন খতিয়ানটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? এর উত্তর একটু জটিল হলেও সহজ করে বলা যায়—সব পর্চাই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সময়ানুগ পর্চার আইনগত গ্রহণযোগ্যতা বেশি। মানে কখনো আর এসকে প্রমাণ করার জন্য এস এ গুরত্বপূর্ণ হয়ে যাবে। আবার কখনো আর এস প্রয়োজনীয় হবে।

আদালতে বা জমি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় সাধারণত সর্বশেষ খতিয়ান (যেমন: বি.আর.এস.) বেশি গুরুত্ব পায়। তবে কেউ যদি সি.এস. খতিয়ান অনুযায়ী মালিকানা দাবি করেন, তাহলে তার উত্তরাধিকার সূত্র এবং পরবর্তীতে ওই জমির কী পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আর.এস. ও বি.আর.এস দিয়ে যাচাই করতে হবে।

খতিয়ান বা পর্চা সংগ্রহ করবো কিভাবে

যেহেতু বর্তমানে স্মার্ট ভূমি সার্ভিস চলে এসেছে। সুতরাং আপনি অনলাইন থেকেই সংগ্রহ করতে পারেন। যদি কোনো কারণে অনলাইনে না পান তাহলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নির্ধারিত নিয়মে সংগ্রহ করতে পারবেন।

মোট কথা সরকার এখন ডিজিটাল ভূমি সেবা চালু করেছে, যার মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসেই পর্চা দেখা এবং ডাউনলোড করা সম্ভব।

👉 ওয়েবসাইট: dlrms.land.gov.bd

প্রক্রিয়া সমূহ
  • প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
  • জেলা > উপজেলা > মৌজা সিলেক্ট করুন
  • দাগ নম্বর/খতিয়ান নম্বর দিন। সবশেষ অনুসন্ধান করুন।

বিঃদ্রঃ সব মৌজার তথ্য এখনো শতভাগ আপলোড হয়নি। তবে প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে।

যে কোনো খতিয়ান সংগ্রহ করতে এখানে কিল্ক করুন

পর্চা আর দাগের  মধ্যকার সম্পর্ক

অনেক সময় আমরা বিভ্রান্ত হই—দাগ না খতিয়ান কোনটা গুরুত্বপূর্ণ? আসলে জমির সুনির্দিষ্ট অবস্থান বোঝাতে দাগ (Dag No.) এবং মালিক বোঝাতে খতিয়ান (Khatian No.) ব্যবহৃত হয়। মনে রাখবেন একটি খতিয়ানে এক বা একাধিক দাগ থাকতে পারে, আবার একটি দাগও একাধিক খতিয়ানে পড়তে পারে। সুতরাং দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

পর্চা ভুল থাকলে করণীয়

জমির পর্চায় যদি আপনার নামের বানান ভুল থাকে, বা পুরনো মালিকের নাম থেকে  থাকে, তাহলে ভুল সংশোধনের আবেদন করতে হবে। আর সেটার বিস্তারিত নিচে ধারাবাহিক বর্ণানা করা হলো।

কিভাবে খতিয়ান বা পর্চার ভূল সংশোধন করবো

প্রথম ধাপ- সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে লিখিত আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মূর দলিলে কপি, ওয়ারিশ সনদ সহ  অন্যান ডুকুমেন্ট অবশ্যই যুক্ত করে দিবেন। নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত ফি প্রদান করার মাধ্যমে সংশোধিত কপি আপনার হাতে তুলে দেয়া হবে।

ডিজিটাল পর্চার সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ

প্রথমেই সুবিধা সমূহ নিচে দেয় হলো-

  • সহজে অনলাইন যাচাই
  • জালিয়াতির সম্ভাবনা কম
  • দ্রুত হালনাগাদ
চ্যালেঞ্জ
  • তথ্য হালনাগাদ না থাকা
  • ইন্টারনেট বিভ্রাট বা সার্ভার সমস্যার কারণে অসুবিধা
  • অনেক এলাকায় এখনো পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হয়নি

জমি কেনার সময় খতিয়ান বা পর্চা যাচাই কেন জরুরি

বাংলাদেশে জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি একটি সাধারণ ঘটনা। তাই জমি কেনার আগে পর্চা যাচাই করা না হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

জমি কেনার আগে যা করবেন

  • C.S, S.A, R.S, B.R.S সব পর্চা মিলিয়ে দেখুন
  • বর্তমান মালিকের নামে খতিয়ান আছে কিনা যাচাই করুন
  • যদি সম্ভব হয়, স্থানীয় ভূমি অফিসে রেকর্ড চেক করুন
  • একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই করানো উত্তম

উপসংহার

ভূমির পর্চা কেবল একটি কাগজ নয়—এটা আপনার অধিকার, নিরাপত্তা। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে যেভাবে ভূমি রেকর্ড সিস্টেম বদলেছে, বদলেছে জমির মালিকানা। তাই আমাদেরও জানা উচিত কীভাবে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হয়।

সঠিক তথ্য, সচেতনতা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে আপনি নিজেই হতে পারেন আপনার জমির রক্ষক। স্মরণে রাখুন—আপনার জমির ইতিহাস যদি আপনি না জানেন, তবে ভবিষ্যতের মালিকানা নিয়েও আপনি নিশ্চিত থাকতে পারবেন না।

Land Info BD কোনো সরকারি ওয়েবসাইট নয়, এবং কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আমাদের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র ভূমি-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করাই আমাদের লক্ষ্য— তাই সাইটটিকে সরকারি প্ল্যাটফর্ম ভেবে বিভ্রান্ত হবেন না।

ভূমি সংক্রান্ত সহায়তার জন্য

কল করুন
অভিযোগ/প্রতিকার ব্যবস্থার জন্য